অভিনেতা ড. ইনামুল হক মারা গেছেন

0
116
অভিনেতা ড. ইনামুল হক মারা গেছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষক ড. ইনামুল হক আর নেই। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ বাসস্থানে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আরও অনেকে।

ড. ইনামুল হকের জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম জানান, তার কোনো ধরনের অসুস্থতা ছিল না। তিনি বাসায় চেয়ারে বসা অবস্থাতেই মারা গেছেন। তাঁর দাফনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্মগ্রহন করেন ড. ইনামুল হক। ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

১৯৬৫ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল (বুয়েট) -এ রসায়ন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কলেজ জীবনেই মঞ্চে অভিনয়ে অভিষেক তাঁর। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬৮ সালে বুয়েট ক্যাম্পাসে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের যাত্রা শুরু হয়। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ তে অভিনয় করেন। এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরও বহু নাটকে অভিনয় করেন।

১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। এই দলের হয়ে তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন ‘জনতার রঙ্গশালা’, ‘সরমা’সহ আরও বেশ কয়েকটি নাটকে। ২০০০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনস্টিটিউট অব ড্রামা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মোস্তফা মনোয়ার পরিচালিত ‘মুখরা রমনী বরশীকরণ’ ছিল ড. ইনামুল হক অভিনীত প্রথম টিভি নাটক। তার লেখা প্রথম নাটক ‘অনেকদিনের একদিন’ নির্মাণ করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। দেশ স্বাধীনের পর বিটিভির প্রথম নাটক ‘বাংলা আমার’ এবং একুশের প্রথম নাটক ‘মালা একশত মালঞ্চের’ তাঁর হাতেই লেখা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here