পর্নোগ্রাফি

4
738
Pornography

পর্নোগ্রাফি (সংক্ষেপে “পর্ন” বা “পর্নো” অনানুষ্ঠানিক ব্যবহারে) যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যৌনসংক্রান্ত বিষয়বস্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন বা পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। পর্নোগ্রাফি বিভিন্ন মাধ্যমের সাহার্যে উপস্থাপন করা হতে পারে, এর মধ্যে অর্ন্তভূক্ত রয়েছে, বই, সাময়িকী, পোষ্টকার্ড, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, অঙ্কন, পেইন্টিং, অ্যানিমেশন, সাউন্ড রেকর্ডিং, চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং ভিডিও গেম।

বিগত কয়েক দশকে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন তথা ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোগকে কেন্দ্র করে একটি বিরাট শিল্প গড়ে উঠেছে। মূলত ভিসিআর, ডিভিডি ও ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার এবং যৌন বিষয়বস্তুর প্রদর্শনে সমাজের অধিকতর উদার মনোভাব এই শিল্প গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ। পর্নোগ্রাফির অভিনেতাদের পর্নোগ্রাফিক অভিনেতা (বা অভিনেত্রী) বলা হয়ে থাকে। তারা সাধারণত পর্ন স্টার নামে পরিচিত হয়। মূলধারার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তুলনায় এদের অভিনয়ের গুণমানও সাধারণত পৃথক হয়। শখের পর্নোগ্রাফি এই শিল্পের জনপ্রিয় একটি ধারা এবং তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিতরিত হয়ে থাকে।

পর্নোগ্রাফির মাধ্যম একাধিক হতে পারে: মুদ্রিত সাহিত্য, ফটোগ্রাফ, ভাস্কর্য, অঙ্কন, চিত্রকলা, অ্যানিমেশন, শব্দ রেকর্ডিং, পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র, ভিডিও, অথবা ভিডিও গেম। অবশ্য সরাসরি দর্শকদের সামনে যৌন ক্রিয়াকলাপ আচরিত হলে তাকে সংজ্ঞা অনুসারে তাকে পর্নোগ্রাফি বলা হয় না। কারণ পর্নোগ্রাফি বলতে উক্ত আচরণটিকে বোঝায় না; বোঝায় উক্ত আচরণের বর্ণনাকে। এই কারণে সেক্স শো ও স্ট্রিপটিজ জাতীয় প্রদর্শনীকে পর্নোগ্রাফির পর্যায়ভুক্ত করা হয় না।

দেশভেদে পর্নোগ্রাফি তথা শিল্পে নগ্নতার প্রদর্শনী ও ফটোগ্রাফির প্রতি সাংস্কৃতিক ও আইনগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য লক্ষিত হয়।

লঘু পর্নোগ্রাফি


Softcore বা লঘু পর্নোগ্রাফি হল বাণিজ্যিক নিশ্চল (still) ফটোগ্রাফি বা ছবি যাতে অশ্লীল যৌন-উদ্দীপনামূলক বিষয়বস্তু থাকে, কিন্তু তা মূল পর্নোগ্রাফির মত সুস্পষ্ট নয়।এতে প্রধানত অর্ধনগ্ন ও নগ্ন কলাকুশলী ও যৌনদৃশ্যের মাধ্যমে যৌন-উদ্দীপনা সৃষ্টি করা হয়। বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও সমাচারপত্রে নগ্ন অভিনেতা বা মডেলদের ছবি সরাসরিই দেখানো হয়। তবে লঘু পর্নোগ্রাফিতে পুরুষ বা নারী যৌনাঙ্গ দেখানো হয় না। বিভিন্ন আর্ট ফিল্মে এই ধরনের নগ্নতাকে নান্দনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যবহার করা হয়।

মানব যৌনাচার


মানব যৌনাচার বা মানব যৌন-কর্মকাণ্ড দৈহিক সম্পর্কের একটি প্রাকৃতিক রুপমাত্র। জৈবিক পুনরুৎপাদন (মানব প্রজনন), আত্মিক সীমাতিক্রমী, আকর্ষণের বহিঃপ্রকাশ অথবা আনন্দ এবং সুখ লাভ প্রভৃতি যে কোন কারণেই এটি হয়ে থাকে। কামবাসনা মানবীয় আচারের একটি মৌলিক চালিকাশক্তি যা জন্মসূত্রেই প্রতিটি মানবের মাঝে বিদ্ধ থাকে। যৌনকার্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রাণীরই যৌনতার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যা সম্পর্কের ভিত রচনা করে এবং এই সীমা নির্ধারণ করে তার সমাজব্যবস্থা এবং আইন।

কাম


কাম বা লাস্য বা লালসা বা লিপ্সা হল শরীরে অনুভূত প্রবল চাহিদা, কামনা ও বাসনার একটি আবেগ বা অনূভূতি। কাম বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে; যেমন: যৌনসঙ্গমের জন্য কাম, জ্ঞানের জন্য কাম, শক্তির জন্য কাম, লক্ষ অর্জনের জন্য কাম ইত্যাদি। তবে যৌনসংগমের বাসনা অর্থেই এটি অধিকহারে ব্যবহৃত হয়।

যৌনসঙ্গম


যৌনসঙ্গম (যৌনমিলনসঙ্গমমৈথুনরতিক্রিয়ারতিমিলনযৌন সংসর্গযৌন সহবাসসহবাস ইত্যাদি) হচ্ছে একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যা দ্বারা মূলত যৌনআনন্দ বা প্রজনন বা উভয় ক্রিয়ার জন্য একজন পুরুষের উত্থিত শিশ্ন একজন নারীর যোনিপথে অনুপ্রবেশ করানো ও সঞ্চালনা করাকে বোঝায়।অন্যান্য অন্তর্ভেদী যৌনসঙ্গমের মধ্যে রয়েছে পায়ুসঙ্গম (লিঙ্গ দ্বারা মলদ্বার অনু প্রবেশ), মুখমৈথুন, অঙ্গুলিসঞ্চালন (আঙ্গুল দ্বারা যৌন অনুপ্রবেশ), যৌনখেলনা ব্যবহার দ্বারা অনুপ্রবেশ (বন্ধনীযুক্ত কৃত্রিম শিশ্ন)। এই সকল কার্যক্রম মূলত মানবজাতি কর্তৃক দুই বা ততোধিকের মধ্যেকার শারীরিক ও মানসিক অন্তরঙ্গতা জনিত পরিতোষ লাভের জন্য এবং সাধারণত মানব বন্ধনে ভূমিকা রাখতে সম্পাদিত হয়ে থাকে।

যৌনসঙ্গম বা অপরাপর যৌনকর্ম কীভাবে সংজ্ঞায়িত হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, যা যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর উপর প্রভাব রাখতে পারে। যদিও যৌনসঙ্গম, নির্দিষ্টভাবে মৈথুন বলতে সাধারণত শিশ্ন-জরায়ুজ অনুপ্রবেশ ও সন্তান উৎপাদনের সম্ভাব্যতাকে নির্দেশ করা হয়, এর দ্বারা সাধারণভাবে অন্তর্ভেদী মুখমৈথুন ও বিশেষত শিশ্ন-পায়ুজ সঙ্গমকেও নির্দেশ করা হয়। এটি সাধারণত যৌন অনুপ্রবেশকে নির্দেশ করে, যেখানে অননুপ্রবেশকারী যৌনতাকে “বহির্সঙ্গম” নামে নামকরণ করা হয়, কিন্তু অনুপ্রবেশকারী যৌনকর্মকে যৌনসঙ্গম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যৌনতা বা ইংরেজি ভাষায় সেক্স, প্রায়শই যৌনসঙ্গমের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যবহৃত রূপ, যা দ্বারা যে কোন প্রকারের যৌনক্রিয়াকে বোঝানো হতে পারে। যেহেতু এসকল যৌনকর্মের সময়ে মানুষ যৌনবাহিত সংক্রমণের সংস্পর্শের ঝুঁকিতে থাকতে পারে, নিরাপদ যৌনচর্চার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, যদিও অনাভেদী যৌনতায় সংক্রমণ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়ে থাকে।

বিভিন্ন আইনি বিধিমালা যৌনসঙ্গমমের সামাজিক অনুমতিপ্রদানের জন্য বিভিন্ন আইন ও রীতিনীতির মাধ্যমে বৈবাহিক রীতির প্রবর্তন, প্রচলন ও সমর্থন করেছে এবং বেশ কিছু যৌনকর্মের বিপরীতে নিষেধাজ্ঞামূলক আইনকে স্থান দিয়েছে, যেমন বিবাহপূর্ব ব্যভিচার ও বিবাহপরবর্তী পরকীয়া, পায়ুকাম, পশুকাম, ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌনচর্চা ও অজাচার। ধর্মীয় বিশ্বাসও যৌনসঙ্গমসহ অন্যান্য যৌনাচার বিষয়ক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে অন্যতম ভূমিকা পালন করে, যেমন কুমারীত্ব বিষয়ক সিদ্ধান্ত, অথবা আইনি বা সরকারী নীতিমালা সম্পর্কিত বিষয়াবলি। বিভিন্ন ধর্মভেদে ও একই ধর্মের বিভিন্ন শ্রেণীভেদে যৌনতা সম্পর্কিত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও কিছু বিষয়ে অভিন্নতা রয়েছে, যেমন ব্যভিচারের নিষেধাজ্ঞা।

অমানব প্রানিদের মধ্যকার প্রাজননিক যৌনসঙ্গমকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যৌনমিলন বা কপুলেশন (ইংরেজি: copulation) বলা হয়, এবং প্রাণিদের মাঝে অ-জরায়ুজ পন্থায়ও নারীর প্রজনন নালীপথে শুক্রাণু প্রদান করা হতে পারে, যেমন অবসারনীয় যৌনমিলন বা ক্লোয়াকাল কপুলেশন। অধিকাংশ অমানব স্তন্যপায়ীতেই, সঙ্গী নির্বাচন ও যৌনমিলন ঘটে থাকে রজঃচক্রের সময়ে (নারীর প্রজনন চক্রের সবচেয়ে উর্বর সময়কাল), যা অন্তঃনিষেকের মাধ্যমে সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায়। তবে, বনবো, ডলফিন ও শিম্পাঞ্জিরা নারীদের রজঃকালকে ধর্তব্য না রেখে যৌনসঙ্গম করার জন্য এবং সমলিঙ্গের সঙ্গীদের সঙ্গে যৌনকর্মে অংশ নেওয়ার জন্য সুবিদিত। মানুষের কাছে যৌনকর্মে অংশ নেওয়া উদ্দেশ্য হল প্রথমত আনন্দলাভ, উপরোক্ত প্রাণিকুলে এই আচরণও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে বলে মনে করা হয়, এবং একে তাদের সামাজিক বন্ধনসমূহ সুদৃঢ় করার একটি নিবেদিত উপাদান বলে মনে করা হয়।

স্ট্রিপটিজ


স্ট্রিপটিজ বা কাপড় খোলা হচ্ছে মানুষের মধ্যে যৌন-উত্তেজনা জাগানোর জন্য এক প্রকারের আয়োজন যেটাতে একজন সুন্দরী নারী বা একজন সুদর্শন পুরুষ এক একে তার সব কাপড় খোলা শুরু করে ধীরে ধীরে এবং সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যায় একটা সময়ে। এরূপ কর্মে নিয়োজিত নারী বা পুরুষকে স্ট্রিপার বা ইক্সোটিক ড্যান্সার বলা হয়।

এই ধরনের অনুষ্ঠান বা আয়োজন সাধারণত কোনো বিলাস-বহুল পাঁচ তারকা হোটেল বা স্ট্রিপক্লাবে হয়।

স্ট্রিপটিজের মূল উদ্দেশ্য মানুষের শরীর দেখিয়ে অন্য মানুষকে যৌন-উত্তেজনা দেওয়া, যৌনমিলন করতে দেওয়া নয়।

নগ্ন আলোকচিত্রশিল্প


নগ্ন আলোকচিত্রশিল্প বলতে নগ্ন বা অর্ধ-নগ্ন ব্যক্তির চিত্র ধারণকারী যে কোনো ধরনের আলোকচিত্র, বা নগ্নতার ইঙ্গিতপূর্ণ চিত্রসমূহ নর্দিেশ করে। নগ্ন আলোকচিত্র বিভিন্ন উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকে, যার মধ্যে শিক্ষাগত ব্যবহার, বাণিজ্যিক প্রয়োগ এবং শিল্পকর্মের উদ্দেশ্য নিহিত থাকে। সাধারণত ব্যক্তিগত ব্যবহার, নির্দিষ্ট বিষয় বা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সঙ্গীর উপভোগের উদ্দেশ্যেও নগ্ন আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়ে থাকে। প্রদর্শনী বা নগ্ন আলোকচিত্রের প্রকাশ বিভিন্ন সংস্কৃতি বা দেশে বিতর্কিত হতে পারে, বিশেষত যদি আলোকচিত্রের বিষয়টি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। অধিকাংশ নগ্ন আলোকচিত্র সাধা্রণত নারী বিষয়ক বৈশিষ্ট্যসম্বলিত হতে দেখা যায়।

শিক্ষা বিষয়ক


নগ্ন আলোকচিত্র সাধারণত বৈজ্ঞানিক এবং শিক্ষাবিষয়ক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করা হয়ে থাকে, যেমন জাতিগত গবেষণা, মানব দেহতত্ব বা যৌনশিক্ষা ইত্যাদি। এই প্রসঙ্গে, আলোকচিত্র গহণে এর বিষয়, বা আলোকচিত্রটির সৌন্দর্য বা যৌনকামনা সৃষ্টির উপর জোর দেওয়া হয় না, বরঙ শিক্ষাগত বা প্রদর্শনমূলক উদ্দেশ্যে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়।

পরকীয়া


পরকীয়া (ইংরেজি: Adultery বা Extramarital affair বা Extramarital sex) হল বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকান্ড| মানবসমাজে এটি লঘু বা গুরুভাবে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য| পাশ্চাত্য আধুনিক সমাজে এর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলেও এটি আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না, তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরকীয়াকারী ব্যক্তির বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারেন| তবে ইসলামি রাষ্ট্রসমূহে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা হল পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড প্রদান|মনোচিকিৎসায় একথা স্বীকৃত যে, পিতামাতার পরকীয়া সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এবং সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সন্তানের মানসিক বিষন্নতার ও আগ্রাসী মনোভাবের জন্ম দেয়| এছাড়া পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে পরকীয়া প্রভাব রাখে|

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি


হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম অনুসারে কাম (শারীরিক যৌনতার উদ্দেশ্যে কাম) হল ছয়টি ষড়ঋপূর একটি, খ্রিষ্টধর্মে এটি সাতটি মারাত্নক পাপের মাঝে একটি পাপ হিসেবে অন্তভূক্ত। ইসলাম ধর্মে অবৈবাহিক (যৌন)কাম নিষিদ্ধ, বৈবাহিক কাম বৈধ এবং বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কামদৃষ্টিতে তাকানো নিষিদ্ধ।

বিবাহবহির্ভূত যৌনতা


বিবাহবহির্ভূত যৌনতা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া (ইংরেজি: Fornication) বলতে পরস্পর অবিবাহিত দুজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘটিত সাধারণত সম্মতিসূচক যৌনসঙ্গম। এই যৌন কর্মের তাৎপর্য একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় যা ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে তারতম্য বজায় রাখে। আধুনিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে, শব্দটি প্রায়ই পরকীয়ার মত মান বিচারের শব্দ হিসেবে প্রতিস্থাপিত হয়ে থাকে।

যৌনতা সম্পর্কিত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি


যৌনতা সম্পর্কিত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আদিকাল থেকে মানুষের যৌনাদর্শ তথা যৌন নৈতিকতা গঠন এবং যৌনাচার নিরূপণে প্রধান ভূমিকা রেখে এসেছে।

প্রতিটি প্রধান ধর্ম যৌনতা, নৈতিকতা, নীতিশাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে নৈতিক সূত্রাবলী তৈরি করেছে। এই নৈতিক সূত্রাবলী এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যেগুলি যৌন আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে এবং জনগণের যৌন ক্রিয়াকলাপ এবং অভ্যাসগুলি প্রভাবিত করতে পারে।

সময়ের সাথে এবং সংস্কৃতির মধ্যে যৌন নৈতিকতা ব্যাপকভাবে ভিন্নতা রয়েছে। একটি সমাজের যৌন মান- যৌন আচরণের মান-ধর্মীয় বিশ্বাস, বা সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থার সাথে যুক্ত হতে পারে, বা এই সমস্তগুলি। যৌনতা এবং প্রজনন বিশ্বব্যাপী মানুষের মিথস্ক্রিয়া এবং সমাজের মৌলিক উপাদান। উপরন্তু, “যৌন সীমাবদ্ধতা” সমস্ত মানব সমাজের জন্য অদ্ভুত সংস্কৃতির সর্বজনীন এক। তদনুসারে, বেশিরভাগ ধর্ম মানুষের আচার-আচরণে যৌনতার জন্য একটি “যথাযথ” ভূমিকার প্রশ্নটি সমাধান করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যৌন নিরপেক্ষতার বিভিন্ন কোড রয়েছে, যা যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে বা নির্দিষ্ট যৌন সংক্রামিত কর্ম বা চিন্তাধারার জন্য আদর্শ মান নির্ধারণ করে।

ধর্ম এবং ধর্মবিশ্বাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃতভাবে লিঙ্গ ও যৌনতা থেকে একটি বিশ্বাসী বিশ্বাসের জন্য নেতিবাচক ধারণা প্রদান করে, যা ঐশ্বরিকের সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি। কিছু ধর্ম জৈবিক প্রজনন (কখনও কখনও শুধুমাত্র যখন আনুষ্ঠানিক বৈবাহিক অবস্থা এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সে) অনুমোদিত, এবং যৌন পরিতোষ জন্য চর্চা অন্যান্য কার্যকলাপ হিসাবে অভ্যাস হিসাবে অভ্যাসের জন্য অনুশীলন করা হয় যৌন কার্যকলাপ মধ্যে পার্থক্য।

ইসলামে যৌনতা


সৃষ্টির শুরু থেকেই পুরুষ মহিলাদের দিকে টান রয়েছে। প্রত্যেকেই বিপরীত লিঙ্গের দিকে দাবিত হয়। ইসলাম ধর্মে তা নিষেধ করে নি। তবে এখানে বেশ কিছু নীতিমালা প্রদান করা হয়েছে। পশুদের মত যৌনকামনা পূরণ করার অধিকার দেওয়া হয় নি। এখানে বিবাহের ব্যাবস্থা রয়েছে। বিবাহের মাধ্যমে একজন পুরুষ কোনো মহিলাকে অধিকার করতে পারবে। তবে এর জন্য উপহার স্বরূপ পুরুষের পক্ষ থেকে মহিলাকে মহর প্রদান করতে হবে। এর সর্বোচ্চ কোনো ধরা বাধা পরিমাণ নেই তবে সর্বনিন্ম দশ দিরহাম হতে হবে।

সূরা নিসার তিন নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের জানান “তোমরা দুই দুই বা তিন তিন বা চার চারটি বিয়ে করো। যদি মনে করো সমতা রক্ষা করতে পারবে না তাহলে একটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো।” এখন আমরা বলতে পারি পুরুষ একসাথে চারটি বিয়ে করতে পারবে কিন্তু একজন মহিলা একসময়ে একজন স্বামী গ্রহণ করতে পারবে।

অন্যায় ভাবে যৌনক্রিয়া করাকে যিনা বলে। ইসলামে ইহাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। আল্লাহ বলেন, “ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত পুরুষ ও নারী যারা,- তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত প্রদান কর: তাদের বিষয়ে করুণা যেন তোমাদেরকে দুর্বল না করে।” —সূরা আন-নুর, আয়াত ২

রাসুল স. হাদীসে বলেন, “একজন অবিবাহিত পুরুষ একজন অবিবাহিত নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাদেরকে একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন পেতে হবে। আর বিবাহিত পুরুষের সাথে বিবাহিত নারীর ব্যভিচারের ক্ষেত্রে, তাদেরকে একশত বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে।” — সহীহ মুসলিম, ১৭:৪১৯১ (ইংরেজি)

এই অবৈধ যৌনাচারের ধারা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল সাঃ বলেন, হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেনঃ আদম সন্তানের উপর যিনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। দু-চোখের যিনা হল (নিষিদ্ধ যৌনতার প্রতি) দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হল শ্রবণ করা, রসনার যিনা হল কথোপকথন করা, হাতের যিনা হল স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওযা, অন্তরের যিনা হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা ও কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ অবশেষে তা বাস্তবায়িত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।

— সহীহ বুখারী, ৮:৭৭:৬০৯ (ইংরেজি),সহীহ মুসলিম, ৩৩:৬৪২১ (ইংরেজি)

সুতরাং আমরা বলতে পারি ইসলামে অবৈধ যৌনাচারের কোনো সুযোগ নেই। বরং এর জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।

4 COMMENTS

  1. […] যৌন উত্তেজনা আসা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা সমূহের একটি। তবে যৌনক্রিয়া ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন এবং আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একজন পুরুষ একজন নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে এবং যৌনতায় লিপ্ত হতে আগ্রহী হয়। একই ভাবে একজন নারী একজন পুরুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে এবং যৌনতায় লিপ্ত হতে ইচ্ছুক হয়। নারী-পুরুষের পারস্পরিক আসক্তি যৌনসঙ্গমে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে এবং যৌনসুখের সৃষ্টি হয়। যৌনসুখ লাভের আকাঙ্ক্ষা নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক জৈবিক চাহিদা। যৌনসুখ লাভের এ প্রক্রিয়ার পরিণতিতে নারীর গর্ভধারণ করতে এবং সন্তান দিতে সক্ষম হয়। সন্তানের জন্ম দিতে বা বংশ বিস্তারে (অর্থাৎ প্রজননে) আগ্রহী নারী ও পুরুষ সাধারণতঃ বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয় কেননা বিবাহ যৌনসঙ্গমের ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি অনুমোদন প্রদান করে।  […]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here