আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের জন্মদিন

0
91
আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের জন্মদিন

আফজালুর ফেরদৌস রুমনঃ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের জন্মদিন আজ। বলতে গেলে বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার হাল ধরে রেখেছেন তিনি একাই। বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন ঢালিউডে তার জয়রথ গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে চললেও কিং খান হিসেবে শাকিবের উত্থানটা ২০০৮ সালের দিকে। তারপর থেকে ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক তিনি। সিনেমার মন্দার একটা সময়ে বলা হয়ে থাকে তিনিই ইন্ডাস্ট্রি। তাকে ঘিরেই এখানে টাকা লগ্নি হয়, ব্যবসার বীজ বোনেন প্রযোজক-হল মালিকরা।

চলচ্চিত্রে অনেক নতুন মুখ আসে তারা আলোচিত হন, সম্ভাবনার আশা জাগান তবে দর্শকদের কাছে ঠিক ওইরকম নায়ক বা অভিনেতার খেতাব আনতে পারেন না যেটা একজন নায়কের দরকার। এজন্যই অনেকে আবার হারিয়েও যাচ্ছেন সময়ের নিয়মে। কিন্তু এতোকিছুর মাঝেও শাকিব খান বহাল তবিয়তে তার স্টারডম টিকিয়ে রেখেছেন এখনো।

সারাবিশ্বে করোনা পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারন করেছে। বাংলাদেশও করোনা নিয়ে ভয় এবং আতংকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে প্রায় অর্ধশত আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। সারাদেশে ১০ দিনেম্র ছুটি ঘোষনা করে সবাইকে বাসায় থাকার ঘোষনা দিয়েছেন সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত। এমতাবস্থায় শাকিব খান আগেই জানিয়েছেন এবারের জন্মদিন পালন করবেন না তিনি।

এবারের জন্মদিনে পরিচালক অনন্য মামুনের পরিচালনায় ‘নবাব এলএলবি’ নামের ঈদের সিনেমার শুটিং শুরু শুরু করার কথা ছিল শাকিবের। কিন্তু দেশের করোনা পরিস্থিতে সিনেমার শুটিং স্থগিত করেছেন শাকিব খান। এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খান বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্বজুড়ে আতঙ্ক চলছে। বাংলাদেশও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতে ঘটা করে জন্মদিন পালন করা সাজে না। এছাড়া জন্মদিনের দিন নতুন ঈদের সিনেমার শুটিং শুরু করার কথা ছিল যা আপাতত বন্ধ রেখেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সিনেমাটির শুটিং শুরু করব।’

শাকিব খান ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘধীতে মাসুদ রানা হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে এসে মাসুদ রানা নামটি পাল্টিয়ে শাকিব খান রাখা হয়। এই শাকিব খান হিসেবেই তিনি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

তাদের আদি নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায়। তার বাবা আব্দুর রব ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী এবং মাতা নূরজাহান একজন গৃহিণী। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন এক বোন ও এক ভাই। বাবার চাকরির সুবাদে তার শৈশব কৈশোর থেকে বেড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

কাগজে কলমে শাকিব খান প্রথমে চুক্তিবদ্ধ হোন আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ সিনেমাতে। তবে হলে মুক্তি পাওয়ার সুবাদে শাকিব খানের প্রথম সিনেমা হিসেবে ধরা হয় সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’কে। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। সিনেমা বক্স অফিসে তেমন সফল না হলেও শাকিব নির্মাতাদের চোখে পড়েন। তারপর একে একে অনেক সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্র আবার কোনটায় সলো হিরো হিসেবে কাজ করেন তিনি।

২০০৭ সালের দিকে এসে জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে একটা একটি জায়গা করে নেন তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে। ওই বছর তার দেড় ডজন সিনেমা বক্স অফিসে ব্যবসাসফল হিসেবে নাম লিখিয়ে নেয়। তখনকার সময়ের সুপারস্টার নায়ক মান্না’র সাথে সাথে তার কিছু সিনেমাও বক্স অফিসে ঝড় তোলে। মান্নার আকস্মিক মৃত্যুর পরে তিনি একাই চলচ্চিত্রের দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হন। এর পরের গল্পটা শুধুই সাফল্যর। ২০০৮ থেকে ২০২০ এই এক যুগে শাকিবের অবস্থান নাড়াতে পারেননি কেউ। অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে বলা যায় শাকিব খান ঢালিউড সাম্রাজ্যের কিং। গত এক যুগ ধরে রাজার মতই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন চলচ্চিত্র অঙ্গন। একে একে উপহার দিয়েছেন কোটি টাকার কাবিন, চাচ্চু, আমার স্বপ্ন তুমি, দাদীমা, এক বুক জ্বালা, সন্তান আমার অহংকার, আদরের জামাই, ডন নাম্বার ওয়ান, প্রিয়া আমার প্রিয়া, সুভা, জান আমার জান, কিং খান, সত্তা, নাম্বার ওয়ান শাকিব খান, রাজনীতি, পূর্ণদৈঘ্য প্রেম কাহিনী, বসগিরি, পাসওয়ার্ড সহ অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা। শুধু নায়ক নয়, প্রযোজক হিসেবেও তার প্রথম সিনেমা ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’-এ অভূর্তপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন। শুধু ঢালিউড নয়, কাজ করেছেন টালিউডেও। সেখানেও উপহার দিয়েছেন শিকারী, নবাব, ভাইজান এলোরে’র মতো সুপারহিট সিনেমা।

সমসাময়িক প্রায় সব প্রবীণ-নবীন নির্মাতার সাথেই কাজ করেছেন শাকিব। নায়ক হয়েছেন তার থেকে সিনিয়র মৌসুমী, শাবনূর, পপি থেকে শুরু করে আজকের নবাগতা বুবলি, নুসরাত ফারিয়া, রোদেলা জান্নাত সহ আরো নায়িকার সঙ্গেও। তবে অপু বিশ্বাসের সাথে তার জুটি বাংলাসিনেমার ইতিহাসে অন্যতম একটি জনপ্রিয় জুটি। ৭০ টির বেশি সিনেমায় তারা জুটি বেধে কাজ করেছেন। উপহার দিয়েছেন অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা। পরবর্তীতে লুকিয়ে প্রেম,বিয়ে এবং ডিভোর্স এসব নিয়ে শাকিব-অপু জুটি ভেংগে যায়।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ২০১২ সালে ‘খোদার পরে মা’ এবং ২০১৫ সালের ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’, ২০১৭ সালে ‘সত্তা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান। এছাড়া অসংখ্যবার পেয়েছেন মেরিল প্রথম আলো, বাচসাস সহ আরো অনেক পুরস্কার।

চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সফল একজন নায়ক হবার পাশাপাশি শাকিব খান একজন সফল প্রযোজক। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মসের ব্যানারে ২০১৪ সালে মুক্তিপায় হিরো: দ্যা সুপার স্টার চলচ্চিত্রটি। ছবিটির পরিচালক ছিলেন বদিউল আলম খোকন। এরপর ২০১৯ সালে শাকিব প্রযোজনা করেন ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমাটি। ব্যবসাসফল এই সিনেমাটি পরিচালনা করছেন মালেক আফসারী। সর্বশেষ শাকিব প্রযোজিত ‘বীর’ সিনেমাটি মুক্তি পায় এই বছর মানে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই সিনেমাটির পরিচালক ছিলেন কাজী হায়াৎ।

প্রেম করে গোপনে বিয়ে করার পরেও অপু বিশ্বাসের সাথে ভেঙে গেছে তার দাম্পত্য জীবন। ২০০৮ সালে বিয়ে করা অপু বিশ্বাসকে তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন। সেই ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে গেল বছরের মার্চ মাসে।

এই নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় বেশ আলোচনা সমালোচনা ছিল। ব্যক্তি জীবনে শাকিব খান এক পুত্রের জনক। মা অপু বিশ্বাসের সাথে থাকলেও নিয়মিত ছেলে জয়ের খোঁজ খবর রাখেন শাকিব খান। এমনকি ছেলের স্কুলের প্রথম দিন উপস্থিত থাকা সহ জন্মদিন বা বিশেষ দিনগুলোতে ছেলের সাথে দেখা করেন এই জনপ্রিয় তারকা।

যারা সিনেমার বাজার নিয়ে খোজ-খবর রাখেন তারা ভালো করেই জানেন যে, চলচ্চিত্রে মন্দার বাজার বিরাজমান, তবুও বানিজ্যিক ধারায় একমাত্র শাকিব খান এখনো আশা জাগাতে পারেন। এই মন্দা সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন উদ্যমে প্রযোজনা করেছেন চলচ্চিত্রে। তার ব্যক্তিজীবন, কিছু সিনেমায় তার অভিনয়, সহশিল্পী, গল্প বা চরিত্র বাছাই নিয়ে অনেক সময় আলোচনা সমালোচনা হলেও, তিনিই হাল ধরে আছেন এই ধুকতে থাকা ইন্ডাস্ট্রির। এই সময়ে এসে নিরব, আরেফিন শুভ, সিয়াম, রোশান চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আশা জাগালেও তাদের পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ।

শাকিব পরবর্তী সময়ে কে বা কারা ধরবেন ইন্ডাস্ট্রির হাল একথা নিয়ে অনেক নাম উঠে আসলেও এখনো সেই অর্থে কোনো বানিজ্যিক ঘরনার নায়ক খুজে পাইনি আমরা। এজন্যই এখনো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষের ভরসার নাম শাকিব খান। এই সময়ে এসে নায়ক হিসেবে এটাই তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। জন্মদিনে অনেক অনেক শুভকামনা এবং অভিনন্দন রইলো তার জন্য। তার অভিনয় দক্ষতা এবং তারকা খ্যাতি নিয়ে তিনি পাড়ি দিবেন সফলতার আরো অনেকখানি পথ এই কামনা রইলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here