দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আদর্শ বীজতলা

0
463
দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আদর্শ বীজতলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আদর্শ বীজতলা দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত দুই বছরে আদর্শ বীজতলার সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। আদর্শ বীজতলায় উৎপাদিত ধানের চারা যে কোনও বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করতে পারে। সুস্থ চারা উৎপাদন ও কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি কম। লাভবান হওয়ায় আগামীতে এই পদ্ধতিতে উপজেলার সব কৃষক বীজতলা করবেন।

বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় শিকড়ে মাটি ধরে না,ফলে চারাগুলো কোনও আঘাত পায় না। জমিতে রোপনের পর শতভাগ চারা জীবিত থাকে এবং অল্প সময়ে বেড়ে উঠে। চারা সবল থাকায় ধানের ফলনও ভালো হয়। স্থানীয় পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে বীজ কম লাগে। ফলে খরচও কম হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে শুকনো জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়। জমি প্রস্তুত হলে ২ হাত প্রস্থ এবং ইচ্ছেমতো দৈর্ঘ্য নিয়ে বেড তৈরি করতে হবে। মানসম্মত বীজ সংগ্রহ করে সেগুলো পানিতে ২৪ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেগুলো বীজতলায় সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। বীজ ছিটানোর পরে আলতো করে মাটি নেড়ে ঢেকে দিতে হবে। ২৫-৩৫ দিনের মধ্যে চারাগুলো রোপণের উপযুক্ত হয়।

এ বছর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ১শ ৫৫হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ১হাজার ৫০হেক্টর জমিতে বীজতলার প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ১হাজার ৭০হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। আদর্শ বীজতলা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১শ ৫হেক্টর তারমধ্যে ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে ।

উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আব্দুল হাই বলেন, স্থানীয় পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে আগাছা পরিষ্কার করতে সুবিধা হয় ও পোকা থেকে সহজেই চারাকে মুক্ত রাখা যায়। আদর্শ পদ্ধতিতে বীজ, শ্রম, সার ও সেচ খরচ কম লাগে এবং চারার মান ভালো পাওয়া যায়।

হারুয়া গ্রামের কৃষক মোঃ চান মিয়াঁ বলেন, আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিতে খরচ কম হয়। সনাতন পদ্ধতিতে যে বীজ প্রয়োজন হতো সেখানে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজ অনেক কম লাগে। আদর্শ পদ্ধতিতে সম্পর্কে সব সময় কৃষি কর্মকর্তাগণ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন ।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, বোরো ধানের আদর্শ বীজতলা তৈরি করে বীজ ধানের অপচয় কমিয়ে সুস্থ-সবল চারা পাওয়া যায়। আদর্শ বীজতলায় আন্ত: পরিচর্যা সহজ ও চারা রোপণের পর দ্রুত রোপনজনিত আঘাত সহ্য করে কুশি বৃদ্ধি করতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, বোরো ধানের আদর্শ বীজতলা খুব সুন্দর হয়েছে। কৃষকদের বীজতলার বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এবছর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার ১শ ৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here