আমাদের একজন ‘তিশা’ আছেন

0
149
আমাদের একজন 'তিশা' আছেন

আফজালুর ফেরদৌস রুমনঃ নতুন কুঁড়ির মঞ্চ থেকে সিনেমার আলো ঝলমলে রঙিন জগৎ এককথায় পুরো যাত্রা পথটা খুব সহজ কিছু ছিল না। তার উপর ছিলনা অভিনয়ের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, তিনি মঞ্চে অভিনয় করেননি কখনও। আমাদের একজন ‘তিশা’ আছেন

কিন্ত স্রষ্টা তাকে প্রতিভার ভাণ্ডার দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন, সেই প্রতিভাটাকে পরিশ্রমের কষ্টিপাথরে ঘষে ঘষে সাফল্যের হীরকখণ্ডে রূপান্তরিত করেছেন তিনি। তিনি এই মুহূর্তে বাংলা নাটকের জগতে অবিসংবাদিতভাবে সেরা জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

তিনি আমাদের সবার প্রিয় তিশা। পুরো নাম নুসরাত ইমরোজ তিশা। আজ এই গুণী এবং দক্ষ অভিনেত্রীর জন্মদিন।

১৯৯৫ সালে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান পাওয়া তিশার মিডিয়া জগতে পদার্পণ টেলিভিশনের মাধ্যমেই। শিশুশিল্পী হিসেবে মূলত গান করতেন। ১৯৯৭ সালে অনন্ত হীরার ‘সাতপৌড়ে কাব্য’ নামে একটি নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে শখের বশে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পদার্পণ করেন। জনপ্রিয় ব্র‍্যান্ড কোকাকোলার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিশার মায়াকাড়া চেহারাটা চিনে নিয়েছিলেন এদেশের টেলিভিশন দর্শকেরা।

এককথায় বলা যায় তখন থেকেই জনপ্রিয় তারকা হিসেবে এগিয়ে যাবার শুরু। অরণ্য আনোয়ারের ‘নূরুল হুদা একদা ভালোবেসেছিল’ নাটকটা দিয়ে সত্যিকার অর্থে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেন তিনি।

তারপরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাবার। ক্যারম, ৬৯, ৪২০, গ্র্যাজুয়েট, মুকিম ব্রাদার্স, ইট কাঠের খাঁচা, কফি হাউজ, মনফড়িঙের গল্প, আরমান ভাই, উন মানুষ, তবুও বসন্ত, অ্যাংরি বার্ড, ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই, বুকের ভেতর পাথর থাকা ভালো, কবিতার মতো গল্প, আয়েশা, কলি২.০, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, আমি তৃনা ও ম্যাজিক, মুখ ও মুখোশের গল্প সহ অসংখ্য জনপ্রিয় এবং দর্শকনন্দিত নাটকে অভিনয় করে নিজেকে এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

ছোট পর্দা ছাড়িয়ে তিশা তার অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন বড় পর্দায়। থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বার, টেলিভিশন, অস্তিত্ব, রানা পাগলা, ডুব, হালদা বা হালের ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘মায়াবতী’ বা ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ তিশা অভিনীত প্রতিটি সিনেমাই নান্দনিক এবং আলোচিত সিনেমা হিসেবে জয় করেছে দেশ বিদেশের নানা স্বীকৃতি এবং জনপ্রিয়তা। সামনে আসছে ঢাকা-২০৪০, শনিবার বিকেল, হলুদ বনি, বোবা রহস্য সহ আরো কিছু সিনেমা।

এছাড়া হালের বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম ওয়েব সিরিজেও তিনি কাজ করছেন। বেশ কিছু বিগ বাজেটের প্রজেক্টে তাকে দেখা যাবে খুব শ্রীঘই। প্রথমবারের মতো প্রযোজক হিসেবে তিশা আসছেন ‘ নো ল্যান্ডস ম্যান’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। এই সিনেমায় বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বাংলাদেশের সিনেমায় অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছেন।

তিশার অভিনয় প্রতিভা নিয়ে আসলে নতুন করে লেখার বা জানানোর কিছু নাই। যেকোন চরিত্রে যে কোনো লুকে তিশা তার দক্ষতা এবং সহজাত অভিনয় প্রতিভা দিয়ে জীবন্ত করে তুলে ধরার ক্ষমতা রাখেন। বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকজন অভিনেত্রীর মধ্যে তাই তার নাম থাকবে লিস্টের উপরের দিকে।

গ্রামের সাধারণ মেয়ে, মধ্যবিত্ত হাউজওয়াইফ, হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে খুঁজতে থাকা এক অসহায় নারী, মানসিক ভাবে অসুস্থ এক মেয়ে, পতিতা, সিংগেল কর্মজীবি আধুনিক নারী, ডাকাত দলের সদস্য, উচ্চবিত্ত ঘরের আদরের কন্যা সহ এমন কোন চরিত্র নাই যা তিশা তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে ফুটিয়ে তোলেননি। জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইরেশ যাকের, তাহসান, অপূর্ব, আফরান নিশো, থেকে শুরু করে হালের সিয়াম, তৌসিফ, জোভান দের সাথেও চুটিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

অনেকেই জানেন না যে, তিশা এঞ্জেল ফোর নামের একটি ব্যান্ড দলও গঠন করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে অভিনয় ব্যস্ততার কারণে সেটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গানের প্রতি আলাদা একটা টান সব সময়েই কাজ করে তার।

ব্যক্তিগত জীবনে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন দেশের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সারয়ার ফারুকী কে। মিডিয়াতে যেখানে তারকাদের নানা স্ক্যান্ডাল এবং বিচ্ছেদের খবর কয়দিন পর পরই সমালোচনার ঝড় তোলে সেখানে তিশা-ফারুকী জুটি নিজেদের সংসার এবং কাজ দুটোই ব্যালেন্স রেখে সমান তালে করে যাচ্ছেন। ভালোবাসার অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে মিডিয়াতে তাদের আলাদা একটা স্থান আছে।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জনপ্রিয় মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার জিতেছেন রেকর্ড সংখ্যক ১৪ বার। এছাড়া ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার জন্য প্রথমবার দেশের সবচেয়ে বড় সম্মান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬ তে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন তিশা।

২০১৮ সালে ‘হালদা’ সিনেমার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো জয় করে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নিজের মেধা, সততা, এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তিশা নিজেকে নিয়ে যাবে সফলতার আরো উচু স্থানে এবং সামনের দিনগুলোতে তার অভিনয় প্রতিভা আমাদের মুগ্ধ করে যাবে তিশার জন্মদিনে এই কামনা রইলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here