মেয়র উমা চৌধুরী জলি

0
165
মেয়র উমা চৌধুরী জলি

মেয়র উমা চৌধুরী জলি নাটোর শহরে ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংস্পর্শে থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সফল ও স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে গণমানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ৭ নম্বর সেক্টরে এবং জোনাল কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সফল নেতা শংকর গোবিন্দ চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে নাটোর জেলার গভর্নরের দায়িত্ব প্রদান করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে আমৃত্যু শোকের দিন হিসেবে প্রতি ১৫ আগস্ট বাড়িতে আগুন না জ্বেলে ‘অরন্ধন দিবস’ পালন করতেন  যা এখন পর্যন্ত তাঁর পরিবারের লোকজন পালন করে চলেছেন। শংকর গোবিন্দ চৌধুরী ১৯৯১ সালে নাটোর সদর আসনের তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের এম.পি এবং একাধিকবার নাটোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

জাতির জনকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শংকর গোবিন্দ চৌধুরী কোনো ছল-চাতুরির আশ্রয় না নিয়ে প্রচুর পৈতৃক সম্পদ দেশের কাজে সমর্পণ করেছেন। নাটোরের অবিসংবাদিত নেতা শংকর গোবিন্দ চৌধুরী অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন।

মেয়র উমা চৌধুরীর মাতা অনিমা চৌধুরী আমৃত্যু নাটোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নাটোর জেলা মহিলা পরিষদ ও জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রী ছিলেন। তিনি রাজনীতির জন্য, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেন। নাটোর জেলার একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নাটোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রয়াত অনিমা চৌধুরীর যথেষ্ট অবদান ছিল।

উমা চৌধুরী জলির প্রয়াত স্বামী প্রদীপ চৌধুরী বুয়েটের মেধাবী ছাত্র এবং পিডিবি-র নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কন্যা পূজা চৌধুরী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ করে স্বামী শৈবালের সাথে বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী।

উমা চৌধুরীর বড় বোন বা বড়দি প্রতিমা চৌধুরীর সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক ছিল প্রবল এবং তিনি ছিলেন একজন দানশীল মহিলা। তাঁর স্বামী অর্থাৎ উমা চৌধুরীর জামাইবাবু এন. কে চক্রবর্তী বিচারক ও আইন সচিব ছিলেন।

ছোট বোন রক্তিমা চৌধুরী বিশেষ দিনকে সামনে রেখে গল্প, কবিতা লেখেন। তিনিও বাবা-মায়ের মতোই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেন। উমা চৌধুরীর ছোট ভগ্নিপতি সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এ ধরনের পরিবারের আদর্শিক বাবা, মা ও মেধাবী স্বামীর সাহচর্যে বেড়ে ওঠা নাটোরের প্রথম নির্বাচিত এবং সম্ভবত দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার একমাত্র নারী মেয়র উমা চৌধুরী জলি।

রাণী ভবানী কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। নাটোরের প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরির নির্বাহী কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুঃস্থ, আর্ত মানুষের সেবা করা, তাদের পাশে দাঁড়ানো মেয়র উমা চৌধুরী জলির নিত্যদিনের কাজ। বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ তিনি। নাটোর জেলা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সভাপতি হিসেবে তিনি নিরলসভাবে এ কাজগুলো এখনো করছেন। বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার অভিপ্রায়ে ছোটবেলা থেকে দেখা বাবা-মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।

মেয়র উমা চৌধুরী জলি নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সদালাপি। নাটোরবাসীর বিভিন্ন দুর্ভোগ ও সমস্যা আন্তরিকতার সঙ্গে নিয়ে তা সমাধান করতে চান। জনগণের সেবা করতে চান তিনি। পৌরবাসীর উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের জন্য মেয়র উমা চৌধুরী জলি সদা প্রস্তুত।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে নাটোর পৌরবাসীর উন্নয়নে তাঁর লক্ষ্য:

  • স্বাচ্ছন্দ্যে পৌরবাসীর চলাচলের জন্য প্রশস্ত রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা।
  • রাত্রিতে নিরাপদে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করা।
  • পৌর এলাকার সকল রাস্তা, ড্রেনসহ সকল ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা করা।
  • পৌরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা।
  • পৌরএলাকার বিভিন্ন গোরস্তান, ঈদগাহ ও শ্মশানের আধুনিকীকরণ।
  • পৌরবাসীদের শিক্ষা প্রসারের জন্য বনলতা, বড়গাছা ও হরিজন কলোনির স্কুলের মানোন্নয়ন।
  • শিশুদের মানসিক বিকাশে পার্ক ও খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং নারীবান্ধব নগর গড়ে তোলা।
  • সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সুস্থ মানসিকতা বিকাশে ক্রীড়ক্ষেত্রে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here