যৌন হয়রানির শেষ কোথায়?

0
112
যৌন হয়রানির শেষ কোথায়?

যৌন হয়রানির শেষ কোথায়? যৌন হয়রানি বলতে ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনের চেষ্টা করাকে বুঝায়। এছাড়াও ইচ্ছাকৃত স্পর্শ করা বা চিমটি কাটা, কাছ ঘেঁষে দাঁড়ানো বা আস্তে ধাক্কা দেয়া, নারীদের চুল স্পর্শ করা বা কাঁধে হাত রাখা, অশালীন মন্তব্য করা, পর্ণগ্রাফির বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করা ইত্যাদি৷ পুরুষ শাসিত সমাজে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় অধিকাংশ নারীই যৌন হয়রানির শিকার। সমাজের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে না নারী।

স্কুল, কলেজ, অফিস- আদালত, গাড়ি- বাড়ি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে শত শত নারী। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, গণপরিবহন, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার, গণপরিবহণে যাতায়াতকালে যৌন হয়রানির শিকার হয় ৯৪ ভাগ নারী।

এছাড়াও বর্তমানে অনলাইন মাধ্যমগুলোতেও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে নারী। একটি জরিপে দেখা যায়, ৩৯ শতাংশ ফেসবুকে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৩ শতাংশ নারী। হোয়াটসঅ্যাপের ১৪ শতাংশ, স্ন্যাপচ্যাটে ১০ শতাংশ, টুইটারে ৯ শতাংশ এবং টিকটকে ছয় শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার।

সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষণ সংখ্যা ও নারীর প্রতি সংহিসতা যে বেড়েছে তা মানতেই হবে। কারণ সারা বিশ্বে ৩৫ শতাংশ নারীই জীবনের কোন না কোন সময়ে যৌন হয়রানি, শারীরিক লাঞ্ছনা, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের কম নারীই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। আর বিচার পেয়েছেন মাত্র ১০ শতাংশ ভুক্তভোগী। এমনই পরিসংখ্যান দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যৌন হয়রানি এমন একটি ইস্যু যাতে দেখা যায়, এরকম হীনমন্য কাজের সাথে যারা যুক্ত থাকে তাদের চেয়ে বেশি সংকোচে থাকে ভুক্তভোগী। কারণ তারা লোক লজ্জার ভয়ে চুপ থাকে। যার ফলে যৌন হয়রানির পরিধি বেড়ে যাচ্ছে। একজন নারীর প্রতি করা এরকম আচরণ যে তাকে কতটা পিছিয়ে দিচ্ছে তার খোঁজ হয় তো অনেকেই রাখে না। একজন শিক্ষক যখন এরকম হীনমন্য কাজে লিপ্ত থাকে তখন ঐ শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনা করাটা যে কতটা হতাশার তা শুধু সেই বুঝতে পারে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের সময়টাতে। এসময়টাতে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে যায়।

একদিকে শারীরিক পরিবর্তন অন্যদিকে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ। যা একজন শিক্ষার্থীকে মানসিক চাপে ফেলে আর একটা সময় সে শিক্ষা থেকেই ঝড়ে যায়। শুধু শিক্ষার্থীর কথাই বলব না, কর্ম ক্ষেত্রেও এরকমটা ঘটছে। আজকাল নারীরা পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু তাদের পিছিয়েও দিচ্ছে যৌন হয়রানিমূলক আচরণগুলো। যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ক্ষতির। নারীরা তাদের কর্মস্থল, পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে গেলে বাংলাদেশও যে পিছিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সর্বোপরি বলতে চাই, যৌন হায়রানি যেহেতু দেশের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তখন এই অপরাধকে আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। মানসিক পরিবর্তন আনতে হবে। স্কুল-কলেজগুলোতে যেহেতু যৌন হয়রানির প্রতিরোধে কমিটি আছে সেগুলোকে সোচ্চার হতে হবে, বিভিন্ন ব্যানার, সামাজিক মাধ্যমগুলো প্রচার-প্রচারণা করতে হবে আমাদের সকলকে সেই সাথে আইনের দ্বারস্থ হতে হবে।

আমি মনে করি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে যত আওয়াজ তোলা যাবে তত এরকম হীনমন্য কাজের পরিধি কমবে। আর এটা শুধু কমানোই নয় যৌন হয়রানিমূলক মানসিক রোগকে সমাজ থেকে বিচ্ছেদ করে দিতে হবে আমাদের। তাই সকলকে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনি কথা বললেই থমকে যাবে আপনার প্রতি করা এরকম আচরণগুলো। সেই সাথে প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করছি যাতে যৌন হয়রানিকারীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

লাইজু আক্তার
শিক্ষার্থী,
নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here