শান্তিচুক্তির ২৫ বছর: সমস্যা ও উত্তরণের উপায়

0
39
শান্তিচুক্তির ২৫ বছর

শান্তিচুক্তির ২৫ বছর: সমস্যা ও উত্তরণের উপায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির একটি এলাকার নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট আয়তন ৫ হাজার ৯৩ বর্গমাইল, যা সমগ্র বাংলাদেশের এক-দশমাংশ। এখানে রয়েছে নানা রকম উচ্চতার পর্বত, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও নয়নাভিরাম কাপ্তাই লেক।

পার্বত্যাঞ্চলে মোট ১৩টি উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস, যারা অত্র অঞ্চলের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী উপজাতি চাকমা, মারমা, বম, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, লুসাই, পাংখোয়া, খুমি, উসাই, রিয়াং, খিয়াং ও চাক। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৮১৫, যার মধ্যে ৪৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ উপজাতি এবং ৫০ দশমিক ০৬ শতাংশ বাঙালি। স্বাক্ষরতার হার ৬৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। উপজাতীয়দের মধ্যে চাকমা উপজাতি ৭৩ শতাংশ শিক্ষার হার নিয়ে অন্যান্য উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর চেয়ে এগিয়ে। ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে উপজাতীয়দের মধ্যে চাকমাদের প্রভাব অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়।

১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এম এন লারমা ও কতিপয় উপজাতীয় নেতা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) গঠন এবং জুম্মল্যান্ড নামে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেন। কিন্তু সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তত্কালীন সরকার তাদের ঐ সব দাবি সংগত কারণেই মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে সংগঠনটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক তত্পরতার পাশাপাশি ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি পিসিজেএসএসের সামরিক শাখা ‘শান্তি বাহিনী’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সশস্ত্র কার্যক্রম শুরু করে।

১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অমরপুর এলাকার কল্যাণপুর নামক স্থানে শান্তি বাহিনীর ক্যাম্পে প্রীতি গ্রুপ ও লারমা গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে পিসিজেএসএসের সভাপতি এম এন লারমা নিহত হন। পরে সন্তু লারমা পিসিজেএসএসের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মূলত ১৯৭৬ সালের মাঝামাঝি থেকে শান্তিবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত সংঘটিত হতে থাকে।

এছাড়া শান্তিবাহিনী কর্তৃক হত্যা, অপহরণ, গুম, জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টি এবং পুনর্বাসিত বাঙালিদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইমারজেন্সি অপারেশন পরিচালনার পাশাপাশি শান্তিবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নামে পরিচিত। ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ তারিখে খাগড়াছড়ি জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেএসএস নেতা সন্তু লারমা তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেন।

সর্বমোট চার দফায় শান্তিবাহিনীর সদস্যরা মোট ৮৭৪টি অস্ত্র জমা দেন এবং শান্তিবাহিনীর ১ হাজার ৯৪৬ জন সদস্য সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, যাদের মধ্যে ৭১৫ জন সদস্যকে পুলিশে চাকরি প্রদান করা হয়। পার্বত্য চুক্তি ছিল তত্কালীন সরকার ও জনসংহতি সমিতি উভয় পক্ষের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। পার্বত্য চুক্তির আলোকে ২৫ সদস্যের আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন) হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন জেএসএসের সভাপতি সন্তু লারমা।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে এবং বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি উক্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। চুক্তি অনুযায়ী ৩৩টি বিভাগের মধ্যে ৩০টি বিভাগ ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ এবং ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ৯টি ধারা বাস্তবায়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ১২ হাজার ২২৩টি উপজাতি পরিবারের ৬৪ হাজার ৬১২ জন ভারত প্রত্যাগত উপজাতি শরণার্থীর পুনর্বাসন সম্পন্ন করা হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির পর ৮১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০৪টি উচ্চবিদ্যালয়, ২৫টি কলেজ, ১১টি পলিট্যাকনিক ইনস্টিটিউট, ১টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ৩টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১টি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়েছে।

বান্দরবানের থানচি ও রুমা সেতু এবং খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু, সীমান্ত সড়ক নির্মাণসহ যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির পর ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার সড়ক, ৩২টি হাসপাতাল ও ২৭টি শিল্প কলকারখানা স্থাপিত হয়েছে। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ব্রিগেড ও ২৪১টি ক্যাম্প পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ৬৯টি নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা নিরসনকল্পে পার্বত্য চুক্তির আলোকে ২০০১ সালে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ জারি করা হয়। কিন্তু এই ভূমি কমিশন উপজাতীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণে একটিও ভূমি সমস্যার নিষ্পত্তি করতে পারেনি। অবশেষে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর পক্ষে অনেকটা ছাড় দিয়ে ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৬ পাশ করা হয়।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১৬-এর ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও বাঙালি জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। সংশোধনীতে ‘ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকার’ দাবিটি প্রতিষ্ঠিত করার আইনগত ভিত্তি পাওয়ায় এবং ভূমি কমিশনের ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন সদস্যই উপজাতি হওয়ায় কমিশনের সব সিদ্ধান্ত বাঙালি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যেতে পারে বলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা মনে করে।

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কথা থাকলেও তাদের কিছু সদস্য অস্ত্র জমা না দিয়ে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে। পাশাপাশি পিসিজেএসএস থেকে জেএসএস (সংস্কারপন্থি) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) থেকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের সৃষ্টি হয়ে মোট চারটি আঞ্চলিক দলের আবির্ভাব হয়। বিশেষত জেএসএস (মূল) ও ইউপিডিএফ (মূল) পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রকৃতি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে জেএসএস (মূল) ও ইউপিডিএফ (মূল) যৌথভাবে প্রতিপক্ষ জেএসএস (সংস্কারপন্থি) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর অস্তিত্ব বিনাশে কিংবা তাদের সমঝোতায় আনতে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে মারমা ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এমএনপি) ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামক আরো দুটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের আবির্ভাব হয়। বর্তমানে দলগুলো এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়।

চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড গঠনের স্বপ্নে বিভোর উপজাতি স্বার্থান্বেষী একটি মহল। স্বাধীন জুম্মল্যান্ড গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে তারা দেশে-বিদেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, বিশেষত ফেসবুকের মাধ্যমে তারা স্বাধীন জুম্মল্যান্ডের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে উপজাতি তরুণ প্রজন্মকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করছে। ইতিমধ্যে তারা স্বাধীন জুম্মল্যান্ডের পতাকা, মুদ্রা, মানচিত্র, পরিচয়পত্র, রেডিও চ্যানেল, জাতীয় সংগীত ইত্যাদি প্রকাশ করেছে। এমনকি জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টকে মান্য না করে তারা ১০ নভেম্বর (এমএন লারমার মৃত্যু দিবস) জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী ও উপজাতি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনশিল্প বিকাশে বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, চন্দ্র পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে বান্দরবানে লংমার্চ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে পর্যটকবাহী গাড়িতে জেএসএস (মূল) দলের সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ, ২৪ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে খাগড়াছড়ি এলাকায় মাইক্রোবাসসহ চার জন বাঙালি পর্যটক অপহরণ ও হয়রানির ঘটনা ঘটে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কতিপয় এনজিও সংস্থার মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ ও দরিদ্র উপজাতিদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণ অব্যাহত রেখেছে। পার্বত্য চুক্তির পর থেকে অদ্যাবধি খ্রিষ্টান ধর্মে ৪ হাজার ৫৯১ জন, বৌদ্ধ ধর্মে ২ জন, হিন্দু ধর্মে ৭৬ জন এবং ক্রামাহ ধর্মে ২৪৮ জন ধর্মান্তরিত হয়।

ভূমি সমস্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে মূল সমস্যাগুলোর একটি। ভূমি সমস্যা দূরীকরণে ভূমি কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া অতি দ্রুততার সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপের উদ্যোগ গ্রহণ করে ভূমির মালিকানা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ভূমি সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ও জঙ্গি সংগঠন নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সব সন্ত্রাসী গ্রুপ নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীর জনবল বাড়ানো অপরিহার্য।

ইতিমধ্যে এপিবিএনের একটি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি থেকে জানা যায়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর জনবল বাড়ানো যেতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর জনবল বাড়িয়ে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। উপজাতি আঞ্চলিক দল ও দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পার্বত্যঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলের বিরাজমান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সবাইকে নির্বিশেষে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।

লেখক:
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদদীন, এনডিসি, পিএসসি (অব.)
এনডিসি, পিএসসি (অব.) সাবেক জেনারেল অফিসার কমান্ডিং চট্টগ্রাম ও রাষ্ট্রদূত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here