শিক্ষা শিক্ষকতা নৈতিকতা-শরীফুল্লাহ মুক্তি

1
65
শিক্ষা শিক্ষকতা নৈতিকতা

শিক্ষা শিক্ষকতা নৈতিকতা-শরীফুল্লাহ মুক্তি। দেড় বছর যাবৎ করোনা মহাসঙ্কটে থমকে আছে গোটা দুনিয়া। বিশ্ববাসী এখনও জানে না এর শেষ কোথায় বা কিসে এর থেকে মিলবে মুক্তি। করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা- আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়মিত ক্লাসগুলো বন্ধ।

অনলাইনে, টিভি-রেডিওতে কিছু ক্লাসসহ বিভিন্ন প্রচেষ্টা অব্যহত আছে বটে তবে তা যথেষ্ট নয়। এগুলো শুধু নিয়ম রক্ষার প্রচেষ্টা মাত্র। তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া শিশুদের বাহিরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই- সারাদিন বদ্ধ ঘরে অবস্থান। অনেকেই বাসায় স্মার্টফোনে ইন্টারনেটে বা স্যাটেলাইট চ্যানেলে বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছে। আবার এভাবে শিশুরা অলস সময় পার করে যে নিজেরাও খুব ভালো আছে তা বলা যাবে না। দুঃসহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে কোমলমতি শিশুরা।

ফলে অনেক শিশু মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, আবার অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিশু বিপথগামীও হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষকরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছেন?

সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষা বলতে লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করাকে বোঝায়। কোনো ব্যক্তির জীবনের নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সহায়তায় পুস্তকাদি হতে পূর্বনির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই এ শিক্ষা সীমাবদ্ধ। কিন্তু আধুনিক কালে শিক্ষাকে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। ব্যাপক অর্থে শিক্ষা হলো আচরণের কাক্সিক্ষত, বাঞ্ছিত, কল্যাণমূলক এবং সমাজস্বীকৃত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন যা বাস্তব জীবনে প্রয়োজনে মানুষ কাজে লাগাতে পারে।

মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলীর বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবজীবনে ভালো গুণগুলোর প্রয়োগ করার শক্তি ও নৈপুণ্য দান করাই শিক্ষা। শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সুস্থ দেহে সুস্থ মন প্রতিপালনের নীতিমালা আয়ত্তকরণ। অন্য অর্থে তথ্য সংগ্রহ করে দেয়া এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে দেয়া।

এছাড়া শিক্ষাই একমাত্র পন্থা যা মানুষকে ভালোর সাথে মন্দের, সত্যের সাথে মিথ্যার, জ্ঞানীর সঙ্গে মূর্খের, উত্তম চরিত্রের সাথে কুচরিত্রের, দেশপ্রেমিকের সঙ্গে দেশদ্রোহীর পার্থক্য বোঝাতে শেখায়। শিক্ষার গুণেই মানুষ নবজন্ম লাভ করে। এজন্য সৈয়দ মুজতবা আলী ‘শিক্ষার লক্ষ্য’ প্রবন্ধে মানুষকে ‘দ্বিজ’ বলে যথার্থই আখ্যায়িত করেছেন। সাধারণ শিক্ষা ব্যক্তিকে অর্থপূর্ণ জীবনযাপনে সক্ষম করে তোলে আর উচ্চশিক্ষা ব্যক্তিকে সামগ্রিক জীবন কীভাবে অর্জন সম্ভব, সে চিন্তার সক্ষমতা দান করে।

মানবজীবনে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। এর ফলে সমাজ বহু সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার হাত থেকে মুক্তি পায়; সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই গুণগুলো হলো উন্নয়নের পূর্বশর্ত। যে জাতির নৈতিকতা ও মূল্যবোধ যত বেশি জাগ্রত হয়, সে জাতি তত বেশি উন্নত এই সত্যটির পক্ষে সকল চিন্তাশীল মানুষই একমত। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের জন্য এ গুণগুলো অনন্য ভূমিকা পালন করে। এর উপর একটি জাতির সভ্যতা, নৈতিক-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

সমাজে ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সকল শ্রেণির মানুষের দক্ষতা বিশেষজ্ঞতাই যথেষ্ট নয় বরং তারা কতখানি মূল্যবোধ দ্বারা সঞ্জীবিত হয়েছে তাই হলো বড় কথা। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ মানুষকে অন্যায়ের পতন ঘটাতে চেতনার যোগান দেয়।

স্বার্থপরতা, আত্মবাদিতা ইত্যাদি সংকীর্ণ চিন্তা থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করে। এ গুণগুলো মানুষকে দেয় প্রবল ও দৃঢ় মানসিক শক্তি, যার ফলে মানুষ যাবতীয় দুর্নীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করতে শেখে; অন্যায় ও অবৈধ পন্থা পরিত্যাগ করে নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উৎকর্ষের জন্যে এবং জাতীয় জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠানিক অনুশীলন ও বিকাশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উৎসারণ এবং তার মাধ্যমে নৈতিক-মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা।

সাধারণভাবে শিক্ষা প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত, বাস্তবায়ন ও ছড়িয়ে দেয়ার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিই হলেন শিক্ষক। কার্যত শিক্ষক এমন ব্যক্তি যিনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, জ্ঞানী, গুণী, আলোকিত এবং বিদ্যাব্রতী। তিনি বিবর্তন ও পরিবর্তনের অনুঘটক। শিক্ষক হলেন শিক্ষাকে বাস্তব রূপদানকারী। তিনি আচার-আচরণ, চাল-চালন ও মননে এক অনুকরণীয় আদর্শ। শিক্ষক অবশ্যই সুবিচারক, যুক্তিবাদী, গবেষক, উদ্ভাবক এবং সমাজের অভিভাবকও বটে।

শিক্ষা, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক- শব্দগুলো পারস্পরিক নির্ভরশীল এবং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষকবিহীন শিক্ষা যেমন কল্পনা করা যায় না তেমনি শিক্ষার্থীবিহীন শিক্ষাও অর্থহীন। শিক্ষক তার কাছে আসা শিক্ষার্থীদের জীবনে বেঁচে থাকার, জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার মন্ত্র শিখিয়ে দেন। তিনি চান তার শিক্ষার্থী জীবনের সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিজয়ী হোক। তিনি শিক্ষার্থীদের মনের আবেগ নিয়ন্ত্রণের দীক্ষা দেন। শিক্ষক হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চার অনন্য কারখানা।

শিশুদের মাঝে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে পরিবার ও সমাজের পরেই হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থান। এখানেই তারা পরিবার থেকে প্রাপ্ত নৈতিক শিক্ষা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলির শিক্ষা পেয়ে থাকে। শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবক সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে ক্লাসের শিক্ষা শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও সৃজনশীল চিন্তার প্রসার ঘটাতে পারে।

শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বা স্বাভাবিক চিন্তাচেতনা বাধাগ্রস্ত হয় এমন কিছু করা যাবে না। মনে রাখতে হবে জীবনের শুরুতে চিন্তাচেতনার স্বাভাবিক ধারা বাধাগ্রস্ত হলে তা থেকে বৈপরীত্য জন্ম নেয়। এ ধরনের পন্থা কখনো আদর্শিক নয়, সাংঘর্ষিক হয়। সুতরাং শিক্ষার্থীর কোমল চিন্তাচেতনাকে লালন করতে হবে এবং এর বিকাশে সকলের ভূমিকা হতে হবে সার্বক্ষণিক সহায়ক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা কোনো বিষয়ে হয়তো বাবা-মা’র কথা শুনছে না, কিন্তু শিক্ষকের কথা শুনছে।

তাই শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটাতে হলে প্রথমে শিক্ষকদের নৈতিক, মানবিক ও সামাজিক গুণাবলি ধারণ, কর্ষণ ও লালন করতে হবে এবং সকল স্তরের শিক্ষাক্রমে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। সামাজিক রীতি-নীতি, কৃষ্টি-কালচারও শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে। তাই সকল স্তরের শিক্ষায় নিয়মিত দেশের কৃষ্টি-কালচার বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করতে হবে।

এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি শক্ত ভিত্ গড়ে উঠবে। ফলে তারা বিপথগামী হওয়া থেকে বিরত থাকবে। সেই সাথে তাদের মননশীলতারও বিকাশ ঘটবে। মূল্যবোধ সৃষ্টিতে ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাই শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তাছাড়া দেশের প্রতি ভালোবাসাও শিক্ষার্থীর মধ্যে মূল্যবোধ তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের মনের ভেতরে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি অন্যতম দায়িত্ব।

ঘরে ঘরে জ্ঞানপ্রদীপ প্রজ্জ্বালনে অনন্য ভূমিকা পালনের জন্য সমাজে তাঁরা পূজনীয় ও সম্মানীয়। শিক্ষক হচ্ছেন তথ্য ও জ্ঞানের আধার। তাই তাঁকে প্রতিনিয়ত অজানাকে জানার দুর্নিবার স্পৃহা নিয়ে জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশ করতে হয়। নতুন নতুন তথ্য তাঁর জ্ঞানভাণ্ডারে সংযোজন করতে হয়। আগামী প্রজন্মের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষককে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তাঁর মধ্যে অজানা বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকতে হবে। অসীম জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করতে না পারলে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে না। সীমিত জ্ঞান দ্বারা শিক্ষকতার মতো পেশা গ্রহণ করা যায় না বা গ্রহণ করা উচিতও নয়।

মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা কৌতুহলী, তাদের মনে হাজারো প্রশ্ন। তাই শিক্ষককে জীবনব্যাপী শিক্ষার অভিপ্রায় নিয়ে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক, কখনো বিষয়ের বাইরেও অধ্যয়ন করতে হবে। শিক্ষকতাকে অর্থোপার্জনের মাধ্যম না ভেবে জ্ঞানচর্চার সুযোগ ভাবতে হবে। তাই তাঁকে প্রতিনিয়ত অজানাকে জানার দুর্নিবার স্পৃহা নিয়ে জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশ করতে হয়। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য ও অভিজ্ঞতা তাঁর জ্ঞান-ভাণ্ডারে সংযোজন করতে হয়। শিক্ষকতা পেশাটাকে জানতে ও বুঝতে হবে। এই পেশার মধ্যে যে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আছে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে শিখতে হবে। কোমলমতি শিশুদের ছোট ছোট পরিবর্তন যার মনে দোলা দেয় না তিনি কখনও প্রকৃত শিক্ষক হতে পারবেন না। আগামী প্রজন্মের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষককে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষককে সব সময় বিভিন্ন কার্যোপযোগী গবেষণা বা কর্মসহায়ক গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করে যোগ্যতর শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। আর অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা একটি শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মূল কারিগর হলেন শিক্ষক। তাই শিক্ষককে হতে হবে পেশার প্রতি আন্তরিক, বিষয়জ্ঞান সমৃদ্ধ, দক্ষ ও ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন। তাহলেই কেবল অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিখন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যিনি পড়বেন তিনি বেশি জানবেন- এই নীতি গ্রহণ করে নিয়মিত অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আর নিজেকে যোগ্য-শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করতে না পারলে শিক্ষার্থীরাই এক সময় সে শিক্ষকের প্রতি আকর্ষণ হারাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে সন্দেহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রত্যেক শিক্ষকেরই তাই আদর্শ বিদ্যাব্রতী শিক্ষক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানুষ পবিত্র স্থান হিসেবে দেখতে চায়। পিতা-মাতা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করান। প্রতিটি বাবা-মাই চান, তাদের সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, প্রকৃত অর্থে মানুষ হোক। শিক্ষকের উপর তাদের আস্থা না থাকলে নিশ্চয়ই অভিভাবকেরা সন্তানদের শিক্ষকের হাতে তুলে দিতেন না। শিক্ষার্থীরাও বাবা-মা’র পর শিক্ষকদেরই তাদের জীবনপথের কাণ্ডারি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে যাতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইপ্সিত পরিবেশ গড়ে ওঠে।

কিন্তু বাস্তবতা কিন্তু আমাদের ভিন্ন কথা বলে। কোথায় যেন একটা শূন্যস্থান আছে। পাসের হার বাড়লেও  কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে না। ঘাটতি থাকছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গায়ও। তাছাড়া অনেক শিক্ষকের মূল্যবোধ-বিবর্জিত নেতিবাচক সংবাদ প্রায়ই আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।

স্কুল ও কলেজের একশ্রেণির তথাকথিত শিক্ষক নৈতিকতা ও আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে লাগামহীন প্রাইভেট ও কোচিং-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও। মাঝে মাঝে শিক্ষকের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুরা যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে- এ রকম খবরও আমরা পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অনুপস্থিতি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবেশ, রাজনীতিসহ সর্বত্র মানব জীবনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সমাজ বা রাষ্ট্র কখনো এটা আশা করে না।

শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের সুনিপুণ কারিগর হলেন শিক্ষক। কিন্তু একজন শিক্ষক প্রকৃত শিক্ষক হবেন তখনই যখন তিনি তার পেশাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসবেন। তিনি হবেন সৎ, নিষ্ঠাবান, ন্যায়-পরায়ণ, সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন। তাই শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে শিক্ষকদের থাকতে কবে নির্মল চারিত্রিক গুণাবলী। থাকতে হবে জ্ঞান আহরণ ও সঞ্চারণে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা।

পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়াও জরুরি। তবেই আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাতে পারবো।

লেখক:
শরীফুল্লাহ মুক্তি
প্রাবন্ধিক, শিক্ষা-গবেষক ও ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর
নান্দাইল, ময়মনসিংহ।

1 COMMENT

  1. বাস্তব প্রেক্ষাপ‌টে চমৎকার লেখ‌নি। আপনার ম‌তো সকল‌কেই ভাবা উ‌চিৎ। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থী‌দের ক‌রোনাকালীন ক্ষ‌তি পু‌ষি‌য়ে নি‌তে সুপ‌রিকল্পনার মাধ্য‌মে আমা‌দের সকল‌কে স‌ক্রিয় ভু‌মিকা রাখ‌তে হ‌বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here