সুখ দুখের ছোট্ট জীবন—মোঃ ফিরোজ খান

0
117
সুখ দুখের ছোট্ট জীবন মোঃ ফিরোজ খান

সুখ দুঃখ নিয়ে আমাদের ক্ষণস্থায়ী ছোট্ট জীবন।সুখের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকে আমাদের সকলের জীবনে।অনেক সময় সুখের মাঝে দুঃখ এসে হাতছানি দিয়ে থাকে তাই বিভিন্ন দুঃখ দূর করার উপায় অবশ্যই লুকিয়ে আছে আমাদের জীবনে।

পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন,যাঁরা খুবই মেধাবী ও যোগ্যতা সম্পন্ন কিন্তু তাঁরা জীবনে কিছুই করতে পারেননি।কারণ খুঁজে দেখাযায় এদের কেউ কেউ নিজের দুঃখকে কাটিয়ে উঠতে পারেননি।জীবনে এমন কিছু দুঃখ থাকে যা দূর করা যায় না।খুব কাছের প্রিয়জনের অসময়ে চলে যাওয়ার মত দুঃখ ভোলাটা খুবই কঠিন। সত্যিকার দু:খ আসলে ভোলা যায় না। কিন্তু তাকে কাটিয়ে ওঠা যায় হয়তো পুরোপুরি দূর করা যায় না কিন্তু তাকে সাথে নিয়েও জীবনে এগিয়ে যাওয়া যায়।

দুঃখ নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে নিজের পাশাপাশি যে কাছের মানুষগুলো থাকে তাদের বেশি ক্ষতি হয়।নিজের অপার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।আর কিছু দুঃখ তো একেবারেই অযৌক্তিক। যেগুলো নিয়ে এক মিনিট পড়ে থাকা মানে সেই মিনিটটি নষ্ট করা।আবার কিছু মানুষ আছেন যাদের মনের মধ্যে দুঃখ থাকলেও তারা সেই দুঃখকে স্বীকার করতে চান না।এমনকি নিজের কাছেও এটা মানতে চান না।এরা দু:খকে অস্বীকার করে সব সময়ে হাসিখুশি থাকার অভিনয় করেন। এটাও আসলে ভালো কিছু নয়। এটা ভেতরে ভেতরে মানুষকে আরও দু:খী করে থাকে।

দু:খ থেকে রাগ,হতাশা,ভয় এগুলো সৃষ্টি হয়, তখন এইসব নেতিবাচক অনুভূতি আরও বেশি শক্তিশালী হয়।আর এই সবগুলো অনুভূতিই মানুষের জীবনের উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাড়ায়। তাই দুঃখের সঠিক কারণ খুঁজে বের করে জীবন থেকে সেই দুঃখ দূর করার উপায় বের করা আমাদের সকলের জরুরী। দু:খের মধ্যে আটকে থাকলে জীবনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায় না। জীবন পরিচালনায় কিছু কিছু উপায় থাকে যেগুলো কাজে লাগিয়ে জীবনে চলার পথে ধৈর্যের সাথে দু:খ ও মন খারাপের মত বিষয়গুলোকে সহজে সামলানো সম্ভব হয়ে থাকে। জীবনে অনেক সময় দুঃখ থাকার পরেও কিভাবে সফল ও সুখী হওয়া যায় তার একটা ধারণা খুঁজে বের করতে হবে।তবে আমাদের সবসময় দুঃখ এর ধরন বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

মাঝে মাঝেই মানুষের মন খারাপ থাকে। আবার কিছু সময় পর তা ভালো হয়ে যায়। একা একা শুয়ে শুয়ে ছোটবেলার কথা ভাবতে ভাবতে মন ভারী হয়ে যায়।বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। কিন্তু একটু পরই আমরা সেটা ভুলে যাই।

এধরনের মুড কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয় না।কিন্তু মাঝে মাঝেই যদি এভাবে মুড অফ থাকে তবে আমাদের সকলের স্বাভাবিক কাজের ক্ষতি হতে থাকবে।এটা তাদের বেশি হয় যারা ঠিকমত ঘুমায়না,অথবা বেশি আলস্য করে।আমার মতে এই ধরনের সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান হল নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো,এবং দিনের কিছুটা সময় শারীরিক পরিশ্রম করা

যেমন- ব্যায়াম করা,কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করা,একটু খেলাধুলা করা ইত্যাদি মনকে অনেক বেশি প্রফুল্ল রাখবে তখন আমাদের মনের দুঃখ অনেকটাই কমে যাবে।এছাড়া যাদের সিগারেট,মদ ইত্যাদি নেশা আছে তাদেরকে এই সকল নেশা বাদ দিয়ে জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। অতিরিক্ত কোমল পানীয় এবং চা-কফি এড়িয়ে চলতে হবে। এর ফলে এই ধরনের মুড অফ থাকার সমস্যা অনেকটা কমে যাবে বলে ধারণা করছি।

অনেক সময় বিশেষ ঘটনার কারণে আমরা মনে কষ্ট পেয়ে থাকি,কাছের মানুষের কাছ থেকে অনাকাঙ্খিত আচরণ পাওয়া,অফিসের বসের কাছে অপমানিত হওয়া,খুব কাছের কেউ মারা যাওয়া,বড় আর্থিক ক্ষতি হওয়া ইত্যাদির ফলে মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী দু:খের সৃষ্টি হয়। এর ফলে অনেকটা সময়ের জন্য কিছুই করতে ভালো লাগে না। এমনকি বছরের পর বছর ধরেও এসব কারণে মানুষের মন খারাপ থাকে এর থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই এটাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি এটা নিয়ে কথাও বলতে চায় না।

কিন্তু এটা মনের ভেতরে দু:খটিকে আরও গভীর করে।মনোবিজ্ঞানী “সেলফ ডেভেলপমেন্ট কোচ ক্যাথরিন স্যানফোর্ড” এর মতে, এগুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে,এগুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বললে অনেক বেশি উপকার পাওয়া যায় এবং জীবন থেকে দুঃখের সময় ধুয়ে মুছে ফেলা সম্ভব হয়। “খুব কাছের বন্ধু, আত্মীয়, ভাই-বোন যে কারও সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললে মন হাল্কা হয়ে যাবে।

ডিপ্রেশন বা হতাশা এটা সবচেয়ে বিপজ্জনক।এটা মানুষকে একদম আটকে ফেলে। যদি সবকিছুতেই আমাদের মনের মধ্যে নেগেটিভ চিন্তা আসে এবং কোনও আশার কথা শুনলেই যদি মেজাজ খারাপ হয়ে যায়,অথবা যদি মনে হয় জীবনে আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না!এবং এজন্য আপনি কিছু চেষ্টাও করেন না তখন‌ই বুঝতে হবে খুব সম্ভব আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন?আপনার যদি মনে হয় আপনি একটু হলেও ডিপ্রেশন বা হতাশায় ভুগছেন,তবে এর জন্য কিছু কথা বলা খুবই প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি।

আমাদেরকে দুঃখ দূর করার একমাত্র উপায় হিসেবে সুখী জীবনকে খুঁজে নেওয়া। যেখানে দুঃখ আছে,সেখানটায় সুখ দিয়ে ভরে দেওয়া।বলতে খুব সহজ কিন্তু করাটা এত সহজ না-ও হতে পারে।সুখের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হল,আমরা জীবনে যা করতে চাই তা করতে পারা। যদি সব সময়ে মন খারাপ থাকে,অথবা হতাশ লাগে, তাহলে ভেবে বের করুন, সবচেয়ে সহজ কোনো কাজটা করতে পারলে একটু ভালো লাগবে।

তারপর সেই কাজটি করুন। হয়তো বাইরে গিয়ে একটু চা খেলে আরো ভালো লাগবে,বা কোনও বন্ধুর সাথে দেখা করলে,একটা মুভি দেখলে মনটা একটু ভালো হবে।যেটাই হোক,তাই এই বিষয়গুলো সাথে সাথে করে ফেলতে হবে।এবং এই ধরনের কাজ করতে করতেই একটু ভাবার চেষ্টা করতে হবে,জীবনে কোন জিনিসটা করতে পারলে আমরা সবচেয়ে খুশি হবো এবং হতে পারলে জীবনে হয়তোবা অন্য কিছু চাইবোনা।

হয়তো এই বিষয়গুলো একবারে ভেবে বের করতে পারবোনা,কিন্তু একটা সময়ে ঠিকই পারবো। আর যখন পারবো, তখন দিনের বেশিরভাগ সময় সেই কাজটির পেছনে কাটাতে চেষ্টা করবো ফলাফল যাইহোক তা নিয়ে না ভেবে শুধু কাজকে প্রধান‍্য দিয়ে যেতে হবে আমাদের। ফলাফলের চেয়ে কাজের প্রসেস বা প্রক্রিয়াকে আমাদের বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা এবং মোটিভেটর “গ্যারি ভেইনারচাক” একবার বলেছিলেন -“আপনি যদি কাজের প্রসেসটাকে উপভোগ করতে না পারেন তবে যত বড় অর্জনই করুন না কেন আপনি সুখী হতে পারবেন না। আর আপনি যেটাকে ভালোবাসবেন, একদিন না একদিন তাতে সফল হবেনই”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here