ময়মনসিংহ

0
149
ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ বাংলাদেশের সপ্তম বৃহত্তম শহর। বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এটি ময়মনসিংহ জেলার প্রায় কেন্দ্রভাগে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। নদীর তীর জুড়ে থাকা শহর-রক্ষাকারী বাঁধের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে নিয়ে গড়ে উঠেছে ময়মনসিংহ পার্ক যা শহরবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।

বর্তমানে পার্কের অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ নগরীতে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, নাসিরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, মুসলিম হাই স্কুল ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ময়মনসিংহ প্রভৃতি; তাই ময়মনসিংহ দ্বিতীয় শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের অষ্টম বিভাগীয় শহর ও কনিষ্ঠতম সিটি কর্পোরেশন।

ডাকনাম: ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত

ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ

বাংলাদেশে অবস্থান

স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৫′১৪″ উত্তর ৯০°২৪′১১″ পূর্ব
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগ ময়মনসিংহ
জেলা ময়মনসিংহ জেলা
প্রতিষ্ঠা ১৭৮৭
সরকার
 • ধরন সিটি কর্পোরেশন
 • মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু
আয়তন
 • স্থলভাগ ৯৯ কিমি (৩৮ বর্গমাইল)
 • মহানগর ৯৯ কিমি (৩৮ বর্গমাইল)
উচ্চতা ১৯ মিটার (৬২ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১৮)
 • মহানগর ৪,৭৬,৫৪৩
সময় অঞ্চল বাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+৬)
পোস্টাল কোড ২২০০-২২০৫
এলাকা কোড 2200-05
টেলিফোন কোড ৯১

নামকরণ

ময়মনসিংহ জেলার নামকরণ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। আর ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তার পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। মুসলিম যুগের উৎস হিসেবে নাসিরাবাদ নামটিও আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও উল্লেখ করা হচ্ছে না।

১৭৭৯-তে প্রকাশিত রেনেল এর ম্যাপে মোমেসিং নামটি বর্তমান ‘ময়মনসিংহ’ অঞ্চলকেই নির্দেশ করে। তার আগে আইন-ই-আকবরীতে ‘মিহমানশাহী’ এবং ‘মনমনিসিংহ’ সরকার বাজুহার পরগনা হিসাবে লিখিত আছে; যা বর্তমান ময়মনসিংহকেই ধরা যায়। এসব বিবেচনায় বলা যায় সম্রাট আকবরের রাজত্ব কালের পূর্ব থেকেই ময়মনসিংহ নামটি প্রচলিত ছিলো।

ব্রিটিশ আমলে জেলা পত্তন কালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমৃদ্ধ জমিদারগণ সরকারের কাছে জেলার নাম ‘ময়মনসিংহ’ রাখার আবেদন করলে সরকার তা গ্রহণ করে নেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] আবার অনেকে মনে করেন, ময়মনসিংহ নামকরণ করা হয় সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি মান সিংহের নাম অনুসারে। সেনাপতি মান সিংহকে সম্রাট আকবর এ অঞ্চলে পাঠান বার ভূইয়ার প্রধান ঈশা খাঁকে পরাজিত করার জন্য।

সেনাপতি মান সিংহ ময়মনসিংহে ঘাঁটি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ঈশা খাঁর কাছে মান সিংহ পরাজিত হয়।তবে এই স্থানের ইংরেজি নাম (Mymensingh) দেখে এই অঞ্চলের মানুষ সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। My= আমার, Men=মানুষগুলো, Sing(h)=গান করে। এই অঞ্চলের মানুষ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খুব ভালো ছিল।তাই ইংরেজরা এই ভাবে নামকরণ করেন।

ইতিহাস

১ মে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলা গঠিত হয় যার প্রথম কালেক্টর ছিলেন মিঃ এফ লি গ্রোস। এর আগে খাগডহর ইউনিয়নের বেগুনবাড়ীর কোম্পানির কুঠিসহ বিভিন্ন জায়গায় কাচারী বসত। কুঠি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হলে শহরের উত্তর অংশে খাগডহরে কাচারী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের কারণে সেই উদ্যোগও ভেস্তে যায়।

পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুরের দক্ষিণে কাওনা নদীর তীরে ‘দগদগা’ নামন প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্রে জেলা শহর স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঐ অঞ্চলের জমিদাররা এই সিন্ধানের বিরোধিতা করে। কর্তৃপক্ষ তাই ১৭৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেহড়া মৌজায় নাসিরাবাদ নাম দিয়ে জেলা শহরের পত্তন হয় ।

শহর স্থাপিত হওয়ার পর ৮ই এপ্রিল ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে পৌরসভা গঠিত হয় নাসিরবাদ মিউনিসিপ্যালিটি।বঙ্গদেশে এটি প্রথম এবং উপমহাদেশে এটি ছিল দ্বিতীয় পৌরসভা। মি. আরপর্চা ছিলেন পৌরসভার প্রথম অফিসিয়াল চেয়ারম্যান। প্রথম নন অফিশিয়াল চেয়ারউয়ান ছিলেন চন্দ্রকান্ত ঘোষ। কালেক্টরেট ভবন ছিল ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রবিন্দু।

১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে সরকারী ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়। প্রথম সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা হয় ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে। ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রথম মুদ্রিত পুস্তক প্রকাশিত হয় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম ইংরেজী স্কুল। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে।

জেলার প্রথম আদম শুমারী পরিচালিত হয় ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে। টেলিগ্রাফ অফিস স্থাপন ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে। । ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ চালু ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে, এবং ময়মনসিংহ-জগন্নাথগঞ্জ রেলপথ চালু হয় ১৮৬৫ সনে। ১৯০৫ সালে নাসিরবাদ নাম বদলে ময়মনসিংহ পৌরসভা নামকরণ হয়। ১৯১০ সালে পৌরসভার একতলা পাকা ভবন নির্মাণ হয় যেটি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ময়মনসিংহ শহর

১৯৭১-এর ২৫ মার্চে ঢাকা শহরে গণহত্যা শুরুর অব্যবহিত পরে ময়মনসিংহের সংগ্রামী জনতা খাগডহর তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প ঘেরাও করে এবং বাঙ্গালী ইপিআর সদস্যদের সহায়তায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

এ যুদ্ধে ইপিআর সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের ড্রাইভার পুত্র আবু তাহের মুকুল শাহাদৎ বরণ করেন। মূলতঃ এই যুদ্ধের পর পরই ময়মনসিংহের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত সীমান্ত ফাঁড়িগুলি বাঙ্গালী বিডিআরদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

নিহত পাক সেনাদের লাশ নিয়ে ময়মনসিংহবাসী বিজয় মিছিল করতে থাকে ও ধৃত অন্যান্য পাকসেনাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এক সকালে পুরাতন বিডিআর ভবনের ৩য় তলার শীর্ষে হাজার হাজার লোকের জয় বাংলা ধ্বনির মধ্যে বাংলাদেশের নকশা খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ভৌগোলিক পরিচিতি

ময়মনসিংহ জেলা ২৪°০২’০৩” থেকে ২৫°২৫’৫৬” উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৩৯’০০” থেকে ৯১°১৫’৩৫” পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অবস্থিত। সর্বশেষ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ (১৯৭১) অনুযায়ী এটি ৫,০৩৯.৭৬ বর্গ মাইল (১৩,০৫২.৯২ বর্গ কিলোমিটার) ব্যাপী একটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত।

প্রকৃত শহর এলাকা, মিউনিসিপাল এলাকার চেয়ে বড়। ময়মনসিংহ শহর তার উত্তর বরাবর প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ময়মনসিংহ শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অসংখ্য। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, কারিগরী বিদ্যালয় ইত্যাদি। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত। ময়মনসিংহ শহর বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষানগরী হিসাবে পরিচিত।
  • ময়মনসিংহে
  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
  • জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  • নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহ
  • আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ
  • ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
  • ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ
  • ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
  • মোমেনশাহী আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজ
  • ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
  • বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল
  • ময়মনসিংহ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • শশী লজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (মহিলা)
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা
  • স্বাধীনতা স্তম্ভ বা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক
  • ময়মনসিংহ জাদুঘর (প্রত্নতত্ত্ব)
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • বিপিন পার্ক
  • সার্কিট হাউস ময়দান
  • বড় মসজিদ
  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • কৃষি জাদুঘর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • লোহার কুঠি বা আলেকজান্দ্রা ক্যাসল
  • আনন্দ মোহন কলেজ
  • ময়মনসিংহ চিড়িয়াখানা
  • চীন-বাংলা দ্বিতীয় মৈত্রী সেতু
  • ময়মনসিংহ রেলওয়ে সেতু
  • জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল
  • ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
  • আঞ্জুমান-ই ঈদগাহ ময়দান
  • বড় কালীবাড়ি মন্দির
  • উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (এইচএসটিটিআই)
  • ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
  • বাংলাদেশ ব্যাংক, ময়মনসিংহ শাখা
  • কাঠের দ্বিতল ভবন, সোনালি ব্যাংক
  • রাম গোপালপুর জমিদার বাড়ি ও সিংহ দরজা
  • কেল্লা বোকাই নগর, গৌরিপুর
  • গৌরীপুর আর.কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি
  • রাজিবপুর রাজবাড়ি, ঈশ্বরগঞ্জ
  • আঠার বাড়ি রাজবাড়ি, ঈশ্বরগঞ্জ
  • জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি জাদুঘর
  • কাদিগড় জাতীয় উদ্যান, ভালুকা

বিখ্যাত ব্যক্তিগণ

  • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  • সুকুমার রায়
  • জগদীশ চন্দ্র বসু
  • আনন্দমোহন বসু
  • হেমেন্দ্রমোহন বসু
  • রায় বাহাদুর সতীশচন্দ্র দত্ত
  • আবদুল জব্বার (১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদ।)
  • জয়নুল আবেদিন
  • সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  • আবুল মনসুর আহমেদ
  • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
  • যতীন সরকার
  • এ আর খান
  • আবুল কাসেম ফজলুল হক
  • গোলাম সামদানী কোরায়শী
  • তসলিমা নাসরিন
  • সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
  • রওশন এরশাদ
  • জালাল উদ্দিন আহম্মেদ
  • ইসফাক আহমাদ
  • মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
  • আরিফিন শুভ
  • জ্যোতিকা জ্যোতি
  • সানিয়া সুলতানা লিজা
  • শুভাগত হোম
  • মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here