অভুক্তদের খোঁজ কে নিবে?

0
190
অভুক্তদের খোঁজ কে নিবে?

অভুক্তদের খোঁজ কে নিবে? বাংলাদেশ উন্নয়নশীল একটি দেশ। বিশ্বের সকল দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলেই জানে। বাংলাদেশের উন্নতির চাকা উন্নতির দিকেই ঘুরছে বলে আমরা দাবি করছি। আসলে এটা কতটা যুক্তি সংগত? যখন আমরা এত উন্নয়ন করছি দেশের তখনো কেন মানুষ অভুক্ত থাকছে?

আর অভুক্ততার কারণে আত্মহননের মতো ঘটনাও পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে। এটা সত্যিই লজ্জাজনক বলে আমি মনে করি। আমার দেশের মানুষ না খেয়ে মরছে, আর আমি বলছি দেশ উন্নত হচ্ছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি এটা বড়ো হতাশাজনক এবং জাতির জন্য লজ্জার।

যখন ২০১৬ সালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি করা হয়, তখন বলা হয় ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে ১০টাকা করে (প্রতি কেজি) প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে। এবং ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

যার নাম ছিলো ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’। এই কর্মসূচির স্লোগান ছিলো— ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ তাহলে প্রশ্ন আসে ক্ষুধা কি নিরুদ্দেশ হচ্ছে? আর এই যে বলা হয় ৫০ লাখ হতদরিদ্রের কথা, এই ৫০ লাখ হতদরিদ্র কারা? যারা অভুক্ত থেকে আত্মহত্যা করছে নাকি যারা ক্ষুধার জ্বালায় অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তারা?

যখন আমার দেশের নেতারা দরিদ্র পরিবারের লোকদের নিয়ে এত ভাবছেন তখনও চাল, ডাল, তেল, পিঁয়াজ থেকে শুরু করে সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তরতর করে বাড়ছে। যেখানে করোনাকালীন সময়ের আগে চালের দাম ছিলো ৩৬.৫০ টাকা এখন সেটা ৪৮ টাকা, তেলের দাম লিটার প্রতি বেড়ে গেছে ৪৫ টাকা। এটাই কি তবে হতদরিদ্রদের নিয়ে ভাবনা?

করোনার জন্য কাজ হারিয়ে যখন লোক পথে বসছে, এখনো কর্ম জীবনে ফিরতেই পারছে না অনেকেই তখন এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াটা পুরোপুরি দেশের জনগণকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের হেয়ালিপনা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। দামের জন্য খাদ্য সামগ্রী কিনতে না পারলে অভুক্ত থাকা ছাড়া আর কি বা করতে পারে জনগণ।

একটি দেশ তখনে বেঁচে থাকবে যখন ঐদেশের জনগণ বেঁচে থাকবে। খাদ্যের অভাবে যদি এখনো জনগণ মারা যায় তবে দেশের উন্নতি দিয়ে কি হবে আমার জানা নেই। তাই বলবো দেশের জনগণের কথা ভেবে হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়া হোক। এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান ও খাদ্যের ব্যবস্থায় সরকার ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হোক। এছাড়াও বিত্তবানদের হতদরিদ্র পরিবারের দিকে সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।

লাইজু আক্তার
শিক্ষার্থী,
নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here